মো: নাজমুল সাঈদ সোহেল ,চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক নারীকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে এক যুবক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে আহত যুবকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে এবং পুলিশকে ধাওয়া দেয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঈদগাঁও উপজেলার ২০ বছর বয়সী এক তরুণী প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ফাঁসিয়াখালীর ছাইরাখালী এলাকার নুরুল আমিনের (২৪) বাড়িতে চলে আসেন। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মেয়েপক্ষের কয়েকজন ওই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে চকরিয়া থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল তরুণীকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু তরুণী পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে এসআই মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে স্থানীয় নুরু মাঝির ছেলে নুরুল আমিন আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
এরপর মুহূর্তের মধ্যে নুরুল আমিনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ধাওয়া দেয় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গুরুতর আহত নুরুল আমিনকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে নুরুল আমিনকে পুলিশের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, “একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভিকটিম উদ্ধারের অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি বা দোষত্রুটি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”